জনতা ডেস্ক
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কাটজ। গত বৃহস্পতিবার সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে এ ঘোষণা দেন ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পোস্টে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হামাস ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইল লড়াই চালিয়ে যাবে। এছাড়া আর কোনো যুদ্ধ নেই। হামাস সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে সম্মতি জানিয়েছে। তবে এ চুক্তিতে রাজি হয়নি ইসরাইল। এরই মধ্যে আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের নিষেধ উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের রাফায় অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। এদিকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা শেষে হামাস প্রতিনিধি দল মিশরের কায়রো ত্যাগ করেছে। এক বিবৃতিতে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরো বলেছে, তাদের প্রতিনিধি দল কায়রো থেকে কাতারের দোহায় যাচ্ছে। এর আগে কাতারে হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সদস্য ইজ্জাত এল- রেশিক বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, তারা গত সোমবার যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন, এর বাইরে যাবেন না। রেশিক বলেন, ‘ইসরাইল যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে আন্তরিক নয় এবং তারা রাফায় আগ্রাসন চালানো ও সীমান্ত ক্রসিং দখলের ঘটনা আড়াল করার মাধ্যম হিসেবে সমঝোতাকে ব্যবহার করছে।’ হামাস যে চুক্তিতে রাজি হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের গাজায় তাদের নিজ আবাসস্থলে ফিরিয়ে আনা হবে। বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রীর সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। এছাড়া হামাসের হাতে জিম্মি থাকা প্রত্যেক নারীকে মুক্তির বিনিময়ে ৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে ইসরাইল। আর দ্বিতীয় ধাপে পুরুষ জিম্মিদের মুক্তি দেবে হামাস। বিনিময়ে আরও ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়া হবে। তবে তাদের সংখ্যা এখনও ঠিক করা হয়নি। অপরদিকে, তৃতীয় ধাপের মধ্যে থাকবে তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তাবায়ন শুরু করা।
এদিকে বাইডেন প্রশাসনের ডাক উপেক্ষা করেই গাজার লাইফলাইনখ্যাত রাফা সীমান্তে হামলা অব্যাহত রাখতে আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে সীমান্তে ট্যাংকসহ বিভিন্ন যুদ্ধসরঞ্জাম ও সেনা জড়ো করছে ইসরাইল। তবে হোয়াইট হাউস বলছে, রাফায় স্থল অভিযান হামাসকেই শক্তিশালী করে তুলবে। অবরুদ্ধ গাজার সীমান্ত শহর রাফার পূর্বাঞ্চলে বিরামহীন গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। আবাসিক ভবন থেকে শুরু করে মসজিদ - দখলদারদের আগ্রাসন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না কিছুই। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্ত্রের চালান বন্ধের পরও বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দখলদার বাহিনী। সীমান্তে বিপুলসংখ্যক ট্যাংকসহ যুদ্ধসরঞ্জাম ও সেনা জড়ো করছে তারা। হামলার মুখে মরিয়া হয়ে রাফা ছাড়ছেন বাসিন্দারা। রাফার পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকা এরইমধ্যে পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। এদিকে রাফায় অভিযানের বিষয়ে আবারো কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। এদিন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেন, রাফায় স্থল অভিযান চালালে কৌশলগতভাবে বিজয়ী হবে হামাস। এরপরও সেখানে হামলা চালালে ইসরাইলের আরো সহায়তা বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিলেও এর কঠোর সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান নেতারা। ক্যাপিটল হিলে এক সংবাদ সম্মেলনে রিপাবলিকান নেতারা বলেন, বাইডেনের এমন সিদ্ধান্ত মিত্রদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলবে। তবে বাইডেন প্রাশাসনের হুমকিকে উড়িয়ে দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে ইসরাইল ‘একা’ লড়াই করবে। ফিলিস্তিনের হামাসকে পরাজিত করতে যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে তারা একা লড়বে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
